বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ও
নির্বাপনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং
জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে “অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপন আইন, ২০০৩” (Fire Prevention and Extinction Act, 2003) প্রণীত হয়।
উক্ত
আইনের
ধারা ৪ অনুযায়ী, কোনো
ব্যক্তি বা
প্রতিষ্ঠান যদি
দাহ্য
পদার্থ
সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ বা
বিপণন
করে,
তবে
তাকে
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট
থেকে
ফায়ার লাইসেন্স (Fire License)
গ্রহণ
করতে
হবে।
২। ফায়ার লাইসেন্সের সংজ্ঞা (Definition):
ফায়ার
লাইসেন্স বলতে
বাংলাদেশ ফায়ার
সার্ভিস ও
সিভিল
ডিফেন্স অধিদপ্তর কর্তৃক
প্রদত্ত একটি
আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র (Permit) বোঝায়, যা দ্বারা
কোনো
প্রতিষ্ঠানকে অগ্নি
নিরাপত্তা বিধি
অনুসারে ব্যবসা
বা
কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি
প্রদান
করা
হয়।
৩। আইনি ভিত্তি (Legal Basis):
·
অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপন আইন, ২০০৩
o
ধারা ৪: গুদাম/কারখানার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।
o
ধারা ৫: লাইসেন্স বাতিলের শর্ত ও প্রক্রিয়া।
o
ধারা ৬: লাইসেন্স হস্তান্তর নিষেধ।
o
ধারা ৭–৮: নতুন ও বিদ্যমান ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনুমোদন।
o
ধারা ১৭–২২: আইন লঙ্ঘনের শাস্তি ও জরিমানা।
৪। ফায়ার লাইসেন্সের উদ্দেশ্য (Purpose):
- অগ্নিকাণ্ড
প্রতিরোধ ও
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- প্রতিষ্ঠানসমূহে
অগ্নি-নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন ও
রক্ষণাবেক্ষণ বাধ্যতামূলক করা।
- দাহ্য পদার্থ ব্যবহারে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ।
- ফায়ার সার্ভিসের
অনুমোদন ব্যতীত কোনো বিপজ্জনক কার্যক্রম প্রতিরোধ।
৫। ফায়ার লাইসেন্সের জন্য আবেদন পদ্ধতি (Application Procedure):
(ক) অনলাইন আবেদন (বর্তমান
নিয়ম):
ওয়েবসাইট: 🔗 https://elicense.fireservice.gov.bd
ধাপসমূহ:
1. আবেদনকারীর তথ্য
ও
প্রতিষ্ঠানের নাম,
ঠিকানা
পূরণ
করতে
হবে।
2. দাহ্য
পদার্থের ধরন,
পরিমাণ
ও
ব্যবহারের বিবরণ
দিতে
হবে।
3. অগ্নি
নিরাপত্তা ব্যবস্থার নকশা
(Drawing) ও
বিবরণ
সংযুক্ত করতে
হবে।
4. ট্রেড
লাইসেন্স, মালিকানা বা
ভাড়ার
দলিল,
এনআইডি,
বিদ্যুৎ বিল
ইত্যাদি সংযুক্ত করতে
হবে।
5. নির্ধারিত ফি
পরিশোধ
করতে
হবে।
6. ফায়ার
সার্ভিস কর্মকর্তা কর্তৃক
পরিদর্শন শেষে
অনুমোদন প্রদান
করা
হবে।
(খ) সরাসরি আবেদন (যদি অনলাইন না হয়):
ফায়ার
সার্ভিস ও
সিভিল
ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিকট
আবেদন
ফরম
(ধারা
৪
অনুযায়ী) পূরণ
করে
দাখিল
করতে
হবে,
যেখানে
নিচের
তথ্য
থাকে—
- প্রতিষ্ঠানের
নাম, ঠিকানা, ধরন
- দাহ্য পদার্থের বিবরণ
- ভবনের আয়তন ও বার্ষিক মূল্য
- অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা (যেমন—fire
extinguisher, exit route, alarm)
- পরিচালক বা অংশীদারদের নাম ও
ঠিকানা
৬। ফায়ার লাইসেন্সের মেয়াদ ও নবায়ন (Validity & Renewal):
- লাইসেন্স সাধারণত ১ (এক)
বছর মেয়াদী হয়।
- মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে।
- নবায়নের সময় পূর্ববর্তী
লাইসেন্সের কপি, আপডেটেড পরিদর্শন রিপোর্ট ও
ফি প্রদান করতে হয়।
৭। ফি ও চার্জ (Fees):
প্রতিষ্ঠানের ধরন,
আয়তন
ও
ঝুঁকির
মাত্রা
অনুযায়ী ভিন্ন
ভিন্ন
ফি
ধার্য
করা
হয়
(সাধারণত ৳৫০০
– ৳১০,০০০)।
ফি
নির্ধারণ করা
হয়
“অগ্নি
প্রতিরোধ ও
নির্বাপন বিধিমালা, ২০১৪”
অনুযায়ী।
৮। লাইসেন্স না থাকলে আইনি পরিণাম (Legal Consequences):
অগ্নি
প্রতিরোধ ও
নির্বাপন আইন,
২০০৩
অনুযায়ী—
·
লাইসেন্স ছাড়া গুদাম/কারখানা চালালে (ধারা ১৭):
ন্যূনতম ৩ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড; মালামাল বাজেয়াপ্ত হবে।
·
লাইসেন্সের শর্ত না মানলে (ধারা ১৮):
ন্যূনতম ৬ মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
·
ফায়ার সার্ভিসের কাজে বাধা দিলে (ধারা ১৯–২০):
১–৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
·
দাহ্যবস্তু অবৈধভাবে সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াকরণ করলে (ধারা ২১):
ন্যূনতম ২ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড; বস্তু বাজেয়াপ্ত হবে।
·
লাইসেন্স বাতিলজনিত ক্ষতিপূরণ দাবি অগ্রহণযোগ্য (ধারা ২২)।
৯। কর্তৃপক্ষ (Competent Authority):
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর
সদর
দপ্তর:
ফায়ার
সার্ভিস ও
সিভিল
ডিফেন্স ভবন,
ফোন:
০২-৯৫৫৫৫৫৫
ওয়েবসাইট: https://fireservice.gov.bd
১০। উপসংহার (Conclusion):